অ্যাপশহর

মেক্সিকোর সীমান্তে অনশনে ২ ভারতীয়

টক হওয়ার পর থেকে অনশন প্রতিবাদ শুরু করেছেন দু’জনে। পেরিয়ে গিয়েছে ৭৪ দিন। নল দিয়ে জোর করে খাওয়ানোর চেষ্টা চলছে। আর সেটা নিয়েই সমালোচনার মুখে পড়েছে মার্কিন সীমান্তরক্ষী বাহিনী। এই পরিস্থিতিতে দুই ভারতীয়ের মুক্তির সম্ভাবনা জোরদার হচ্ছে।

EiSamay.Com 27 Sep 2019, 8:47 am
এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: মাস দু’য়েকের চেষ্টায় উত্তর ভারত থেকে মেক্সিকো সীমান্তে পৌঁছেছিলেন তাঁরা, পুরোটাই চোরাগোপ্তা পথে। সেখানে সীমান্তে টহলদারি বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে রাজনৈতিক আশ্রয়ের দাবি জানিয়েছিলেন। বক্তব্য ছিল, পাঞ্জাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাত থেকে পালিয়ে এসেছেন, মার্কিন মুলুকে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী তাঁরা। কিন্তু সে দাবি মান্যতা পায়নি। ফলে টেক্সাসের এল পাসোর শরণার্থী শিবিরে ঠাঁই হয়েছিল পাঞ্জাবের দুই যুবক, ৩৩ বছরের অজয় কুমার এবং বছর চব্বিশের গুর্জন্ত সিংয়ের।
EiSamay.Com hunger strike


আটক হওয়ার পর থেকে অনশন প্রতিবাদ শুরু করেছেন দু’জনে। পেরিয়ে গিয়েছে ৭৪ দিন। নল দিয়ে জোর করে খাওয়ানোর চেষ্টা চলছে। আর সেটা নিয়েই সমালোচনার মুখে পড়েছে মার্কিন সীমান্তরক্ষী বাহিনী। এই পরিস্থিতিতে দুই ভারতীয়ের মুক্তির সম্ভাবনা জোরদার হচ্ছে।

বিবিসিতে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, অজয়ের রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন ‘ইউএস বোর্ড অফ ইমিগ্রেশন অ্যাপিলসে’ ঝুলে রয়েছে। ইমিগ্রেশন জাজের কাছে তাঁর আবেদন খারিজ হওয়ার পর পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়েছেন তিনি। অজয় এবং গুর্জন্তের দাবি, যতদিন তাঁদের আশ্রয়ের আবেদন নিয়ে সিদ্ধান্ত না হচ্ছে, তাঁদের মুক্তি দেওয়া হোক। যাঁদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনের শুনানি চলে, তাঁদের আটক রাখা বা মুক্তি দেওয়ার অধিকার শরণার্থী সংক্রান্ত বিভাগের আধিকারিকদের হাতেই থাকে। ২০১৮ সালে মার্কিন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে যে ৯,০০০ ভারতীয় ধরা পড়েছেন, সেই তালিকাতেই রয়েছে অজয় এবং গুর্জন্তের নাম। ধরা পড়া ভারতীয়দের অধিকাংশই পাঞ্জাব এবং হরিয়ানার বাসিন্দা, কয়েকজন গুজরাটের। গত জুলাইয়ে সীমান্ত রক্ষীবাহিনীই আরিজোনার মরুভূমিতে ছ’বছরের এক ভারতীয় শিশুর দেহ উদ্ধার করেছিল।

অজয় এবং গুর্জন্ত অনশন শুরুর এক মাসের মধ্যেই আদালতের নির্দেশ আসে, বাঁচিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনে তাঁদের জোর করে খাওয়াতে হবে। আদালতে অজয়ের বক্তব্য, ‘নার্স একটা লম্বা টিউব নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন, চিকিৎসক বলছেন, না খেলে ওটা নাকে ঢুকিয়ে দেওয়া হবে। আমি খেতে অস্বীকার করায় আমার নাকে জোর করে টিউবটি ঢুকিয়ে দেওয়া হল। নাক থেকে রক্তপাত, অসহ্য ব্যথা।’ আটক অবস্থায় ১৭ কেজি ওজন কমেছে অজয়ের। তাঁর আইনজীবী জেসিকা মাইলসের দাবি, ‘এঁদের উপর অত্যাচার করে বাকি বন্দিদের বোঝানো হয়, অনশন করলে এই পরিণতি হবে, এটা অপমানজনক!’

অজয়ের দাবি, তিনি পাঞ্জাবের কৃষক পরিবারের সন্তান। তিনি সরকার বিরোধী দলের সদস্য হওয়ায় তাঁর বোনের উপর অ্যাসিড হামলা হয়, বাবাকে খুন করা হয়। প্রাণ বাঁচাতে মেক্সিকো সীমান্তে পালিয়ে এসেছেন তিনি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ গুর্জন্তেরও। শারীরিক অসুস্থতার যুক্তিতে অজয় এবং গুর্জন্ত মুক্তি পেলেও তাঁদের গোড়ালিতে ইলেকট্রনিক মনিটরিং ডিভাইস লাগানো হবে, যাতে তাঁদের গতিবিধির উপর নজরদারি চালাতে পারে পুলিশ। কিন্তু সেই মুক্তিও আটক জীবনের থেকে ভালো। আর তাই মুক্তি ও আশ্রয়ের আশায় দিন গুনছেন অজয়-গুর্জন্তরা।

পরের খবর

Worldসম্পর্কে আরও বিস্তারিত ও নতুন খবর জানতে ক্লিক করুন। সব ধরনের ব্রেকিং, আপডেট এবং বিশ্লেষণ সবার প্রথম বাংলায় পড়তে ক্লিক করুন Bengali Newsএই সময় ডিজিটাল