অ্যাপশহর

এখানে মেয়েরা বিয়ে করার চেয়ে আত্মহত্যাকেই শ্রেয় মনে করেন!

বউ জোটাতে হিমশিম খান্না গ্রামের যুবকরা। ভিনগ্রামের মেয়ে এহ বাহ্য, নিজের গ্রামেও দেখা দিয়েছে পাত্রীর আকাল।

EiSamay.Com 3 Oct 2017, 5:13 pm
এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: মনোবাসনা যতই তীব্র হোক, বউ জোটাতে হিমশিম খান্না গ্রামের যুবকরা। ভিনগ্রামের মেয়ে এহ বাহ্য, নিজের গ্রামেও দেখা দিয়েছে পাত্রীর আকাল। এর একমাত্র কারণ জল সঙ্কট।
EiSamay.Com girls prefer suicide to marriage in this village
এখানে মেয়েরা বিয়ে করার চেয়ে আত্মহত্যাকেই শ্রেয় মনে করেন!


উত্তরপ্রদেশের মাহোবা জেলার একরত্তি গ্রাম মাহোবা। গত কয়েক প্রজন্ম যাবত এই গ্রামে পানীয় জলের সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করেছে। শুধু এই গ্রামই নয়, আশেপাশে কোনও পুকুর-খাল,-বিল এমনকি কুয়োও পড়ে নেই, যা শুকিয়ে যায়নি। শুধু তাই নয়, মাহোবা ও হামিরপুর, এই দুই জেলার মাঝামাঝি জায়গায় অবস্থানের কারণে জলের জোগানের জন্য পাইপলাইন বসানোর ব্যবস্থা করেনি সরকারও।

সামাজিক রীতি অনুযায়ী, জল আনার দায়িত্ব পরিবারের মহিলাদের। প্রতিদিন কলসি-বালতি নিয়ে ৪ কিমি দূরে চন্দ্রওয়াল নদীর তীরে পৌঁছতে হয়। প্রখর রোদের তাপে নদী শুকিয়ে গিয়েছে। জলের খোঁজে তাই নদীর পারে ১০ ফিট গভীর গর্ত খুঁড়েছেন মেয়েরা। এই কুয়োই এখন খান্না গ্রামের তৃষ্ণার্ত বাসিন্দাদের একমাত্র ভরসা।

জলের অভাবে ধুঁকতে থাকা গ্রামে দেখা দিয়েছে নানান সমস্যা, যার অন্যতম হল সুপাত্রীর সন্ধান পাওয়া। খান্না গ্রামের কোনও পাত্রকেই মেয়ে দিতে রাজি নন আশেপাশের গ্রামবাসীরা। প্রতিদিন সকাল-সন্ধে জলের তালাশে কঠোর পরিশ্রম করে জীবন কাটাতে চান না বিবাহযোগ্যা কোনও যুবতী। অবস্থা এমনই যে, স্ব-গ্রামেও কনে খুঁজে পাচ্ছেন না খান্নাবাসী যুবকরা। মেয়েদের সাফ কথা, শৈশব থেকে রোজ জল জোগাড় করার নিদারুণ অভিজ্ঞতা বিয়ের পরেও কেউ ভোগ করতে চান না। বরং অন্য গ্রামে শ্বশুরবাড়ি হলে তবু এই সমস্যার হাত থেকে ছাড়া পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

গ্রামের মেয়ে সুশীলা যেমন জানিয়েছেন, 'সকাল থেকে সন্ধে পর্যন্ত জল আনতে গিয়ে জীবন কেটেছে। বিয়ে করতে তাই কোনও রকম ইচ্ছে নেই। তার চেয়ে বরং আত্মহত্যা করা ভালো।'

পরের খবর

Nationসম্পর্কে আরও বিস্তারিত ও নতুন খবর জানতে ক্লিক করুন। সব ধরনের ব্রেকিং, আপডেট এবং বিশ্লেষণ সবার প্রথম বাংলায় পড়তে ক্লিক করুন Bengali Newsএই সময় ডিজিটাল